DailyBarishalerProhor.Com | logo

১৬ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৩১শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

বরিশাল জেলা প্রশাসককে আহম্মক বলে কুটক্তি করায় বেকায়দায় ছাত্রলীগ নেতা সুজন

প্রকাশিত : এপ্রিল ৩০, ২০২০, ১৮:০৮

বরিশাল জেলা প্রশাসককে আহম্মক বলে কুটক্তি করায় বেকায়দায় ছাত্রলীগ নেতা সুজন

শাকিব বিপ্লব !! বার বার ঘুঘু তুমি ধান খেয়ে যাও, এবার পড়লে ধরা- সেই পরিস্থিতিই যেনো সৃষ্টি হয়েছে বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমানের সুজনের ক্ষেত্রে। একের পর এক অপকর্ম সাধন করে পার পেয়ে গেলেও বরিশাল জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্যপূর্ণ আহম্মক বলে কুটক্তি করায় খোদ নিজ সংগঠন জেলা ছাত্রলীগ সুজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে ঢাকায় সুপারিশ পাঠিয়েছে। আভাস পাওয়া গেছে, এঘটনার প্রেক্ষাপটে বির্তকের অনুঘটক এই ছাত্রলীগ নেতা বহিস্কার হতে যাচ্ছেন। সেই সাথে বরিশাল নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, এধরণের ঔদ্বত্যপূর্ণ আচারণ কাম্য নয়। অতি বারাবাড়ির খেসারত দিতে হয়। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হেমায়েত উদ্দিন সুমন সেরনিয়াবাত এই সুপারিশের গৃহিত পদক্ষেপের বিষয়টি মিডিয়াকে নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কোন এক সময় আশিকুর রহমান সুজন ফেসবুক লাইফে এসে নিজেকেসহ বরিশালবাসীকে কু-কর্মের অংশিদার ও জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমানকে আহম্মক বলে তীরযোগ মন্তব্য করেন। ধারণকৃত সেই লাইফ ভিডিও করে নিজের ফেসবুক আইডিতে আফলোড দেয়। মুহূর্তে তা ভাইরাল হয়ে যায়। এই দৃশ্য দেখে বরিশালের সুশিল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রিয়া-প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ঘটনার ইস্যূ হচ্ছে, সম্প্রতি করোনা দূর্যোগ নিয়ে বরিশালের উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী টেলিকনফারেন্সে জেলার সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চান এবং বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দেন। ওই কনফারেন্সে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রীসহ দলীয় দুইজন সংসদ সদস্য এবং সিটি মেয়র সেরনিয়াবত সাদিক আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। ধারণা করা যাচ্ছে টেলিকনফারেনন্সে জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে বরিশালে করোনাভাইরাস মোকাবেলা ও দূর্যোগকালীন দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সহয়তা দেয়ার ক্ষেত্রে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ভূমিকার কথা উহ্য রাখা হয়। অথচ একই সময়কালে টেলিকনফারেন্সে খুনলার জেলা প্রশাসক সেখানকার জনপ্রতিনিধিদের ত্রাণ সহয়তার ভূমিকা রাখার বর্ণনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
নেতা সাদিক আবদুল্লাহর এই মুহূর্তের অবদান প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে না ধরার পিছনে জেলা প্রশাসকের নীতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে এমনটি প্রকাশ করে তাকে আহম্মকের ন্যায় তুলনা করে ছাত্রলীগ নেতা আশিকুর রহমান সুজন ফেসবুক লাইভে এসে নাতিদীর্ঘ একটি বক্তব্য রাখেন। সেখানে বরিশালবাসীকেও অপকর্মের অংশিদার বলা হয় একারণে যে, নগর পিতার কেউ খোঁজ নিতে যান না কেমন আছেন তিনি। তার এই বক্তব্যে মাধ্যমে নেতার অনুকূল্য লাভের চেষ্টার বহিপ্রকাশ ঘটে বলে বিভিন্ন মহলে কথা ওঠে। অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ সেই উপমার সাথে কেউ কেউ তুলোনাও করেন। অতিবুদ্ধিতে গাজর নষ্টের ন্যায় ছাত্রলীগ নেতার এই ভূমিকায় মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সাথে জেলা প্রশাসকের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি বা শীতল লড়াই চলছে তা ওই ছাত্রলীগ নেতার বক্তব্যে ইঙ্গিত বহন করে।
একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে বরিশালের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি বরিশাল জেলা আ’লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টিকারে। মেয়র সাদিক আবদুল্লাহও ছাত্রলীগ নেতার এই পদক্ষেপ ভালো চোঁখে নেয়নি। এরই ফলশ্রুতিতে জেলা ছাত্রলীগ আশিকুর রহমান সুজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এবং এ নিয়ে একটি বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অনুমোদন প্রত্যাশায় একটি সুপারিশ মালা বরিশাল থেকে পাঠানো হয়। এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত জানান সুজন অতিউৎসাহী হয়ে দলকে বিতর্কের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সেই সাথে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহও বিব্রত হয়েছেন। এতে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে দূরত্ব সৃষ্টির একটি আবাহ তৈরি হওয়ার সামিল।
ফলে সার্বিক বিবেচনায় বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সম্ভাবত গত বুধবার ২৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুজন প্রসঙ্গে ওই সুপারিশ পৌছেছে। ঢাকার একটি সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ বরিশাল ছাত্রলীগের এই কান্ডজ্ঞানহীনতাকে উদ্দেশপূর্ণ বলে মনে করছে। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সুজনকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এখন সময়মাত্র।
উল্লেখ্য, বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচলিত যে হঠাৎ করে উত্থান আশিকুর রহমান সুজন নানান ঘটনায় বিতর্কিত একটি নামে পরিণত হয়েছে। যা বরিশার আ’লীগের জন্য বুমেরাং স্বরূপ। বিশেষ করে সিটি মেয়র সেরনিয়াবত সাদিক আবদুল্লাহর নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে কীর্তনখোলার পূর্বতীরে সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে রূপ দেয়াসহ তার বেঘোরে চাঁদাবাজিতে বিভিন্ন মহল অতিষ্ঠ। সম্প্রতি চরকাউয়া টু গোমা সড়কের এক পরিবহন শ্রমিক নেতাকে বরিশাল শহরের বাসা থেকে তুলে এনে পিটিয়ে আহত করে প্রথম আলোচনায় আসেন। বরিশাল জেলা আ’লীগের কার্যালয় সম্মুখে এই ঘটনায় পরিবহন সেক্টরে অসন্তোষ ও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। কিন্তু সেই ঘটনা আর বেশি দূর গড়ায়নি। তবে অবৈধ চিংড়ি মাছের রেণু পাচারকারীদের কয়েক দফা আটক করে পিটিয়ে নিজের ভয়ঙ্কর রূপ উপস্থিপন করে তাদের বাঘে এনে মাসিক চাঁদা আদায়ের বিষয়টি প্রকাশ পায়। সেই মূহূর্তে ২৫ এপ্রিল বিকেলে চরকাউয়া পল্লী বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে একজন লাইনম্যানসহ তিনজনকে আহত করেন। এ ঘটনার পরদিন বন্দর থানায় সুজনের বিরুদ্ধে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ একটি মামলা দায়ের করেন। যেদিন মামলাটি দায়ের হয়, সেই দিনই জেলা প্রশাসককে কুটক্তি করে বক্তব্য দেয়া সুজনের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়।
কথা উঠেছে কৌশলী এই ছাত্র নেতা অঘটন সাধন করে বেকায়দায় পরার সমূহ সম্ভাবনা মুহূর্তে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সাথে সাংগঠনিক কর্মসূচিতে তার সঙ্গি হয়ে ধারণকৃত ছবি ফেসবুকে আফলোড করে নেতার অনুকূল্য লাভের চেষ্টায় স্পর্শকাতর স্টাটার্স দিয়ে থাকেন। অরূপ ভিডিও প্রকাশের উদ্দেশেও অভিন্ন। সুজনের এই কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় সবশেষ অংশ এসে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ বিব্রত হওয়ায় কপাল পুড়েছে সুজনের। সম্ভাবত এই প্রথম অঘটন পটিয়াসি ছাত্রলীগ নেতা ফাপরে পরলেন।


যোগাযোগ

বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যলয়

ছয়মাইল বাজার, কলসগ্রাম, এয়ারপোর্ট, বরিশাল।

মোবাইলঃ ০১৭১১১১৩৩৮৩, ০১৫১১০৩৬৮০৯,০১৯১১১৭০৮৮৪

মেইলঃ barishalerprohor.news.bd@gmail.com

সামাজিক যোগাযোগ
Web Design & Developed By
ইঞ্জিনিয়ার বিডি নেটওয়ার্ক

প্রতিষ্ঠাতা :
মোঃ নাছিম শরীফ


উপদেষ্টা :
কামাল হোসেন লিটন মোল্লা

মেইলঃ barishaler.prohor@yahoo.com
  • মোবাইলঃ ০১৭১১০৩৬৮০৯, ০১৯১৯০৩৬৮০৯
    • সম্পাদক ও প্রকাশক : নাজমুন নাহার শিমু
    • নির্বাহী সম্পাদক - মোঃ মুন্না মোল্লা
    • বার্তা প্রধানঃ মোঃ আল আমিন হোসেন
    ডেইলি বরিশালের প্রহর কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি ও বিষয়বস্তু অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি।